একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনই পেয়েছেন জিপিএ–৫। রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার ও এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯ বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সাদিয়া বেগম। এরপরে থেমে যায় পড়াশোনা। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি। শেষ পর্যন্ত আবারও হাতে তুলে নেন বই। নতুন করে শুরু করেন শিক্ষাজীবন।
সংসারের দায়িত্ব, সন্তানদের লালন–পালন ও পড়াশোনা–সবকিছুর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যান সাদিয়া। প্রায় ২ বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবার সম্মতিতে শুরু করেন পরীক্ষার প্রস্তুতি।
২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ–৫ অর্জন করেছেন সাদিয়া বেগম। অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি (বিজ্ঞান বিভাগ) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ–৫ পেয়েছে।
নিজ সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে সাদিয়া বেগম বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি আমার ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা করতে পারিনি। তবে কখনো হাল ছাড়িনি।’
তিনি বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত নিলাম, ছেলের সঙ্গে আমিও পরীক্ষা দেব। পরিবারের সম্মতিতে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই চলতি বছর ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই।’
সাদিয়া আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, সংসার সামলিয়ে এবং দুই ছেলের পড়ালেখার খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি নিজেও পড়ালেখা করে জিপিএ–৫ পেয়েছি। একই সঙ্গে ছেলে গোল্ডেন জিপিএ–৫ পেয়েছে। মা–ছেলের এমন সাফল্যে আমরা পুরো পরিবার আনন্দিত।’
মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা তানভীর আহমেদের কাছেও ছিল অন্যরকম।
তানভীর বলেন, আমি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান যে, এবার আমার মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। কারণ মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য কজনের হয়? আমি সেই সৌভাগ্যবান।
তিনি বলেন, মা সবসময় আমার পড়ালেখার খোঁজখবর রাখতেন। পাশাপাশি নিজেও পড়তেন। রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকতেন, আর আমি পড়ালেখা করতাম।
তানভীর আরও বলেন, ‘আমার এই কৃতিত্ব আমার বাবা–মাকে উৎসর্গ করছি।’
মা–ছেলের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি ৪ বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়াই। পাশাপাশি তার মাকেও পড়াশোনায় সহযোগিতা করছিলাম।’
আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মা–ছেলে দুজনের এমন সাফল্যে আমি অনেক খুশি। নিজে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’
এসএ