শিগগিরই ইরান বিজয় উদযাপন করবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সোমবার (১৬ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ইরান তার ভূখণ্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় এবং এমনভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে শত্রুরা আর কখনো এ ধরনের হামলার সাহস না পায়।
তিনি বলেন, ইরান প্রতিপক্ষের কাছে কোনো বার্তা পাঠায়নি এবং যুদ্ধবিরতির অনুরোধও করেনি। খবর প্রেস টিভির।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে এই যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের আগ্রাসনের চিন্তাও শত্রুদের মাথায় না আসে।’
আরাঘচি জানান, তিনি এর আগেও একই বক্তব্য সিবিএস নিউজকেকে দিয়েছিলেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতি না চাওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান যুদ্ধ চায়; বরং লক্ষ্য হলো এমন পরিণতি নিশ্চিত করা যাতে এই হামলা পুনরাবৃত্তি না হয়।
আরাঘচি বলেন, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করে।
এর জবাবে ইরান দ্রুতই মার্কিন ও ইসরায়েলি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পাল্টা হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, আগের দফার আগ্রাসনের সময় শত্রুরা ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চেয়েছিল, কিন্তু পরে তারাই যুদ্ধবিরতির আবেদন করতে বাধ্য হয়।
তিনি আরো বলেন, হামলার শুরুর দিকে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আলি খামেনি শহীদ হয়েছেন, যা তার দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য ‘সম্মানের পদক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই সংঘাতে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সময়টা কঠিন ছিল, তবে দেশের প্রতিরোধ, আত্মরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণ জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরও জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখনো খোলা আছে, তবে ইরানের শত্রু এবং যারা দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িত তাদের জন্য এই পথ বন্ধ।
আরাগচির মতে, শত্রুরা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে তারা কেমন জাতির মুখোমুখি হয়েছে—একটি জাতি যা নিজেদের রক্ষায় কোনো দ্বিধা করে না এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।