উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দামের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (DI) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS) যৌথভাবে আয়োজিত একটি নাগরিক সংলাপে এসব উদ্বেগের বিষয় উঠে আসে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান নভেম্বর মাসে পরিচালিত এক জনমত জরিপের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ৩৩ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত। এই ভোটারদের আস্থা অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করা জরুরি।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে এবং এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে চিহ্নিত করেছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (রিসার্চ) ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি থাকায় পরিবারগুলো ক্রমাগত প্রকৃত আয় হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর পড়ছে, যা সামাজিক কল্যাণকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, নির্বাচিত হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিএনপি একটি সমন্বিত দুই ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে আমদানি বাড়িয়েও ভোক্তাদের স্বস্তি দেয়া সম্ভব নয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধি মারদিয়া মমতাজ বলেন, দ্রব্যমূল্য ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা বাড়াতে হবে। প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের মাধ্যমে টেকনোক্র্যাটদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার মালা, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব হুমায়রা নূর, গণসংহতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান রুবেল এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শরিফুজ্জামান শরীফ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত লিটন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিলের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সংলাপের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানটি এফসিডিও অর্থায়নে বি–স্পেস (B-SPACE) প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়।