বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল রংপুর রাইডার্স। চট্টগ্রাম পর্বের শেষদিনের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২৪ রানে মিকি আর্থারের শিষ্যদের হারিয়েছে দুর্বার রাজশাহী।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে রংপুর প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাজশাহীর ব্যাটাররা এই চ্যালেঞ্জ মাথা উঁচু করে গ্রহণ করেন। দলীয় ৭৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও এনামুল হক বিজয় ও ইয়াসির আলি রাব্বি তাদের ব্যাট হাতে দলকে পথ দেখান। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েন ৭৬ রানের মূল্যবান জুটি।
ইয়াসির আলি ছিলেন রাজশাহীর ইনিংসের নায়ক। ৩৯ বলে ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনি হাঁকান চারটি চার ও দুটি ছক্কা। এনামুল হক বিজয় ২৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। শেষদিকে আরিফুল হক ও মেহেদি হাসান মিরাজের ছোট ছোট অবদানে ৯ উইকেটে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে রাজশাহী।
রংপুরের হয়ে বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন হাসান মাহমুদ ও মঈন খান। হাসান ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন তিনটি উইকেট, আর মঈন খান দুটি উইকেট শিকার করেছেন।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই রংপুরের ইনিংসে ধস নামে। দলীয় ৪৭ রানেই তারা হারায় তিনটি উইকেট। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও রনি তালুকদার ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান দ্রুত। মিডল অর্ডারে সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দেন।
সাইফ হাসান ৩২ বলে ৪৩ ও নুরুল হাসান ২৯ বলে ৪১ রান করেন। তাদের ব্যাটে রংপুর একসময় ম্যাচে ফেরার আশা করছিল। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। শেষদিকে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ২৩ রানের ইনিংস খেললেও পরাজয় এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
পুরো ইনিংসে রংপুর ১৯.২ ওভারে অলআউট হয় ১৪৬ রানে। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে মাহিদুল ইসলাম অনিক ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। নাহিদুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ের ফলে দুর্বার রাজশাহীর টানা আট ম্যাচে জয়হীন থাকার শৃঙ্খল ভেঙে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। অপরদিকে, টানা জয়ের পর এই প্রথম হোঁচট খেল রংপুর রাইডার্স।
বিপিএল এখন উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছেছে। রাজশাহীর এই জয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় ফেরার বার্তা দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া রংপুর রাইডার্স।
চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মুখোমুখি হবে খুলনা টাইগার্স ও সিলেট স্ট্রাইকার্স। এই ম্যাচটি সিলেটের শীর্ষস্থানের লড়াই এবং খুলনার সেমিফাইনাল আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।