সম্মুখসারিতে একাধিক স্থানে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। ফলে দেশটির বাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি যুদ্ধ আরও চলতে থাকলে ইসরায়েলি বাহিনী ‘ভেঙে’ পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। আল–জাজিরা
সেনাপ্রধান বলেন, ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাপ ও জনবলের ঘাটতির মুখে দেশটির সামরিক বাহিনী ‘নিজের ভেতরেই ধসে পড়বে’। জামির মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের সামনে ১০ সতর্ক সংকেত তুলে ধরেছি।
ইসরাইলি সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফের এখন একটি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন প্রয়োজন। এগুলো করতে না পারলে শিগগিরই আইডিএফ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকবে না এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাটিও টিকবে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জামির একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। গত জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৈন্য সংকট অদূর ভবিষ্যতে সামরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধের পর থেকে সংঘাত ও অন্যান্য সামরিক চ্যালেঞ্জের কারণে বাহিনীতে ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে বলে আইনপ্রণেতাদের বহুবার জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের জুন মাসে ইসরাইলের হাইকোর্ট একটি রায়ে জানায়, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের কয়েক দশক ধরে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরপর থেকে অতিরক্ষণশীল ইহুদি দলগুলো তাদের সমর্থকদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।
বর্তমানে দেশটিতে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রায় ৮০ হাজা অতিরক্ষণশীল ইহুদি যুবককে সামরিক সেবার জন্য যোগ্য বলে মনে করা হয়। তবে তাদের এখনো সেনাবাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।