প্রায় ২২ ঘণ্টার পর ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া যানজট কখনো ধীরগতির, আবার কখনো দীর্ঘ আকার ধারণ করে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সেতুর ঢাকামুখী লেনে প্রথমে ৫টি গাড়ি পর্যায়ক্রমে বিকল হওয়ায় এমন ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এরপর দুর্ঘটনা ও নতুন করে আরও কয়েকটি যানবাহন বিকল হলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। এদিন রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়। দুর্ঘটনার পর সেতুর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে সময় বাড়ার সঙ্গে সেতুর উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস সরিয়ে নিলে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। তবে শনিবার ভোর রাতে সেতুর ওপর আবারও একটি গাড়ি বিকল হলে দুপারে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী হামিদ মিয়া বলেন, “ভোরো টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি যমুনা সেতু পার হয়ে আটকে আছি। মাছ নিয়ে টাঙ্গাইলে বিক্রি করব। এখনো যেতে পারছি না।”
যমুনা সেতু পশ্চিম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, যমুনা সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকল হয়ে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ভোর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
যমুনা সেতু নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনা, যানবাহন বিকল ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুর দুপাশেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এ যানজট নিরসনে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইল থেকে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অবস্থার অবনতি হলে পরে সেতুর দুটি লেন খুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আজ সকাল নাগাদ দুর্ঘটনাকবলিত ও বিকল যানবাহনগুলো সেতুর ওপর থেকে অপসারণ করায় এখন যানজটমুক্ত হয়েছে।
এসএ