বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের’সহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন– আওয়ামী লীগের যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
অপর ২ সদস্য হলেন– বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু হয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন চেয়ারম্যান।
এ মামলার রায় পড়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।
সবশেষে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
বর্তমানে মামলার ৭ আসামিই পলাতক রয়েছেন।
২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। যাচাই–বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।
একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল–২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়।
এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।
এসএ