বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না।
তিনি ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়া ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। কাজেই আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ধীরে ধীরে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভোট কেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখ যার যার ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে। ভোট দেওয়া শেষ করেই বাড়ি ফিরে যাবেন না, ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে।’
তিনি জানান, বহু বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি, অতীতে নানাভাবে ভোট লুট হয়েছে। এবার সেই সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
গাজীপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে এই জেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতাকে আবার রক্ষা করার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে। তাদের এই অবদানকে কোনভাবেই বৃথা যেতে না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছোটবেলায় এই ভাওয়াল মাঠেই আমি দৌড়াদৌড়ি করেছি, খেলেছি। রাজবাড়ির উল্টো দিকের লাল বাংলোতে আব্বা, আম্মা, আমি আর আমার ছোট ভাই থাকতাম। কাজেই গাজীপুরের মানুষ কাছে আমারও একটি হক আছে, ওই হিসাবে আপনাদের কাছে আমার দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন।’
গাজীপুরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ করে তারেক রহমান বলেন, জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ, খাল খনন, শিল্প–কারখানায় ডে–কেয়ার সেন্টার স্থাপন, মা–বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। তার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
এ সময় ভোটারদের কাছে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। প্রার্থীরা হলেন— মজিবুর রহমান (গাজীপুর–১), এম মনজুরুল করীম রনি (গাজীপুর–২), এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর–৩), শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর–৪) এবং ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর–৫)।