বেসরকারিখাতে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির আয়ের ওপর সাড়ে ২৭ শতাংশ করারোপ ‘জাতীয় সঞ্চয়ের‘ ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।
‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির‘ এই সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তির ওপর এই কর ‘বোঝা‘ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের মতে, এই উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিকালীন সময়ে কর্মীর প্রতিমাসের বেতনের একটি অংশ কেটে রাখা হয়। এর সাথে চাকরিদাতার সমপরিমান অংশ যোগ হয়ে যা জমা হয়, তা কর্মীর ভবিষ্য তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ড।
আর গ্র্যাচুইটি হলো, একজন কর্মী যত বছর চাকরি করেন, প্রতিবছরের জন্য এক মাসের বেতনের সমান অর্থ চাকরিদাতা কর্মীকে দেন। জমে থাকা অর্থ এফডিআর–সঞ্চয়পত্র বা অন্য মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়। কর্মী অবসরে গেলে জমানো অর্থের পাশাপাশি বিনিয়োগের লভ্যাংশ বা সুদসহ টাকা পান।
২০১৬ সাল থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি থেকে প্রাপ্য সুদের ওপর শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ কর আদায় করছে রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী, শুধু বেসরকারিখাতের জন্য এই করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে শতকরা ২৭ দশমিক ৫ ভাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি বৈষম্যমূলক। এর ফলে ‘সঞ্চয়‘ প্রবণতা ও সঞ্চিত অর্থের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা বাড়বে বলে মত দেন তারা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন স্কিম চালু সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির আয়ের ওপর করের বোঝা না চাপানোর আহ্বান তাদের।
এসএ/দীপ্ত নিউজ