দুই–এক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখবেন, আর সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে লেবুর শরবত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই রমজানে লেবুর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাত্র একদিনের ব্যবধানে লেবুর দাম বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। তবে লেবুর দাম বেড়ে গেলে বা এটি সহজলভ্য না হলে বিকল্প কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে লেবুর পাশাপাশি আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা একই কার্যকারিতা প্রদান করতে পারে।
আমলকী
লেবুর সবচেয়ে কার্যকারী বিকল্প হতে পারে আমলকী। লেবু ও আমলকী উভয়ই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ। তবে, পুষ্টিগুণের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আমলকী। লেবুতে প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন–সি থাকে। অন্যদিকে, আমলকীতে প্রতি ১০০ গ্রামে ৪৭০–৭০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা লেবুর তুলনায় বহুগুণ বেশি। লেবুতে ফাইবার থাকে ২.৮ গ্রাম, আর আমলকীতে ফাইবার থাকে ৩.৪ গ্রাম। এছাড়াও আমলকীতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়তা করে। আমলকীর রস পান করলে লেবুর মতোই সতেজতা পাওয়া যায় এবং এটি হজমশক্তিও বাড়াতে সহায়ক।
শসার শরবত
শসা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। শসার রসের সাথে একটু মধু ও পুদিনা মিশিয়ে শরবত তৈরি করলে এটি লেবুর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
তোকমার শরবত
তোকমার দানা পানিতে ভিজিয়ে শরবত তৈরি করা যায়, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি তৃষ্ণা মেটায় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
অন্যান্য বিকল্প
তরমুজ শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। এতে প্রাকৃতিক সুগার থাকায় এটি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।বেলের শরবত শরীর ঠান্ডা রাখে, পানিশূন্যতা দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে। কমলা ও মালটাতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা লেবুর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর। এটি সহজেই হজম হয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
শুধু লেবুর ওপর নির্ভরশীল না থেকে, এসব বিকল্প উপাদান গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং প্রচণ্ড গরমেও সতেজ অনুভূত হবে। প্রতিদিনের ইফতারের তালিকায় এসব পানীয় যুক্ত করলে রোজার ক্লান্তি অনেকটাই কমে যাবে।