শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

বৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা: দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসপি বরাবর অভিযোগ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
নরসিংদীর শিবপুরে এক নিরক্ষর বৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

​নরসিংদীর শিবপুরে এক নিরক্ষর বৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম (৭০) প্রতিকার চেয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন—শিবপুর উপজেলার ধনাইয়া গ্রামের রমজান আলী (২৮) ও ফারুক (৩২)।

​অভিযোগে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি তার পৈত্রিক ৫২.৫ শতাংশ জমি নামজারি (খারিজ) করার জন্য স্থানীয় রমজান ও ফারুকের শরণাপন্ন হন। নামজারি বাবদ অভিযুক্ত ফারুক বিভিন্ন সময়ে রফিকুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং জমির মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেন।
​পরবর্তীতে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে সই করার কথা বলে জনতা ব্যাংকের নিচে ডেকে নিয়ে রফিকুলকে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। রফিকুল ইসলাম নিরক্ষর হওয়ায় সরল বিশ্বাসে সেখানে টিপসই ও স্বাক্ষর দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই কাগজগুলো আসলে নামজারির নয়, বরং জমি বিক্রির ‘বায়না দলিল’ ছিল। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম অভিযুক্তদের কাছ থেকে জমি বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, এখন ওই চক্রটি জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং জমির মূল কাগজপত্র আটকে রেখেছে। এমনকি তারা রফিকুলের বাড়ির গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গেছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনায় তিনি শিবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৯৯২) করেছেন।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মো. মুতি মিয়া বলেন, “ফারুক ও রমজান এলাকায় জমির দালালি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার কাজে লিপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরীহ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করাই তাদের মূল কাজ।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই চক্রটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। অপর অভিযুক্ত রমজান আলীর সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জিডির বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More