কেরানীগঞ্জের তেলঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার ভেতরে কোন মৃতদেহ মেলেনি।
সোমবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮টায় ওয়াটার বাসটি উদ্ধারের কথা জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর তৈলঘাটে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচ থেকে ছয় জন নিখোঁজ রয়েছেন; এমন দাবি উঠেছে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি অভিযান চলবে বলেও জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।
কমডোর আরিফ আহমেদ আরও জানান, ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধারে ভোরে পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে এসে পৌঁছায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। উদ্ধারকারী জাহাজটি পোস্তগোলা ব্রিজ পার হতে না পারায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটিকে পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে টেনে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই উদ্ধার কাজ শুরু করে রুস্তম। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। এভাবে নদীতে নিমজ্জিত ওয়াটার বাসটির উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়।
এর আগে, রবিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরঘাট শ্যামবাজার থেকে কেরানীগঞ্জের তৈলঘাটে যাওয়ার পথে বুড়িগঙ্গা নদীর অংশে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ওয়াটার বাসটি।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার ফারুক রাসেল জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। এ ঘটনায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক শিশু ও দুজন পুরুষ রয়েছে। আর পাঁচ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন–ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়ার মো. ফাহিম (২২) ও কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার মো. আলী (১৪)।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার ও জীবিতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আফ/দীপ্ত নিউজ