ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে বিজয়ী হয়েছেন দলটির দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কিছু নেতা।
তাদের অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন, আবার কেউ কেউ পরিবারের ঐতিহ্যের জোরে রাজনীতিতে এসেছেন।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব ব্যাপক। নেতারা প্রয়াত হলে বা তাদের উপস্থিতিতে তাদের সন্তানরা রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এই প্রক্রিয়ায় মেধাবী, ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়, তবে কখনো শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নেতৃত্বে আসা ব্যক্তিরাও থাকেন। বিএনপির ক্ষেত্রে এই প্রবণতা স্পষ্ট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন।
ইশরাক ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। যিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। খোকা ঢাকার একাধিক আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন– ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট।
এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার পিতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন চট্টগ্রাম–১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। প্রথমবার নির্বাচনে নেমে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট।
তরুণ রাজনীতিবিদ সাঈদ আল নোমান স্বল্প সময়ে রাজনীতির ময়দানে চমক দেখিয়েছেন। সাঈদের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন সাঈদ।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রভাব সব সময়ই ছিল।তিনি প্রায় ৩০ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসি দিয়েছে হাসিনা সরকার। সালাহউদ্দিন এই আসন এবং ফটিকছড়ি থেকেও নির্বাচন করেছেন জীবদ্দশায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর–১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট।
ফারজানা শারমিন পুতুল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। পুতুল নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদে রয়েছেন।
ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশ রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট।
শামা ওবায়েদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকেন্দ্রিক রাজনীতি করে আসছেন। কেএম ওবায়দুর রহমানও এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন।