চোখ ধাঁধানো আতশবাজি, লেজার শো ও জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বর্ণিল আযোজনে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়েছে ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি ও টোঙ্গায় প্রথম সূর্যালোকের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসব সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ে সিডনি থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অনুযায়ী প্রথম নতুন বছরকে স্বাগত জানায় কিরিবাতি। পরে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বড় পরিসরে উদযাপন শুরু হয়। অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ার থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী দিয়ে বর্ষবরণের সূচনা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজ এলাকায় বিশ্বের অন্যতম বড় আতশবাজি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা দেখতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ জড়ো হন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ছিল বর্ষবরণের আয়োজন। জাপানের টোকিওতে মন্দিরের ঘণ্টা বাজিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রোন শো ও লেজার ডিসপ্লের মাধ্যমে বর্ষবরণ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে বুর্জ খলিফাকে ঘিরে আলোকসজ্জা ও আতশবাজির আয়োজন ছিল নজরকাড়া।
ইউরোপে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসব শুরু হয়। লন্ডনে বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনি ও টেমস নদীর পাড়ে আতশবাজিতে মুখর ছিল শহরটি। প্যারিসের চ্যাম্পস–এলিসিস ও আইফেল টাওয়ার এলাকায় আলোক প্রদর্শনী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ঐতিহ্যবাহী বল ড্রপ দেখতে কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হন।
এবারের বর্ষবরণে বিশ্বনেতা ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বের আহ্বান। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং চলমান সংঘাত নিরসনের প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্ববাসী ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে।