দেশের ৮ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও সাড়ে চার লক্ষাধিক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রকৌশল শির্ক্ষাথীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনের সিইসি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ কর্তৃক উত্থাপিত দাবির (৩ দফা) কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা, বিষয়গুলো সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত রয়েছে। আমরা মনে করি, তাদের এই আন্দোলনের পেছনে কোনো অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে। তারা অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো প্রকৌশল শিক্ষাঙ্গন ও প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি দেশে চরম নৈরাজ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। আমাদের ধারণা তারা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে চাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় পুলিশের সাথে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মারমুখী আচরণ ও পুলিশকে আহত করা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করছি–সরকার এদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পেশাজীবী ও ছাত্র শিক্ষকদের ইতিবাচক আন্দোলনকে মূল্যায়ন করবেন। প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রের মীমাংসিত বিষয়গুলো অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আমাদের ৭ দফার অন্যান্য দাবিগুলোর যৌক্তিক সমাধান করবেন। আমরা সরকারের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের দর্শনের প্রতি আস্থাশীল।
তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষা নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে সদস্য সচিব করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আইডিইবি‘র আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন ও আইইবি‘র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলামকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারের ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইতিমধ্যে সরকার গঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন সংগ্রাম পরিষদের ৭ দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উক্ত কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি–উক্ত কমিটিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে মাত্র ৪ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের পক্ষে ৮ জন সদস্য রাখা হয়েছে কমিটিতে ডিগ্রি প্রকৌশলীদের আধিক্যতার কারণে পক্ষপাতিত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই মতবিনিময় থেকে উক্ত ওয়ার্কিং কমিটিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে ১জন ও ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে ১জনকে অন্তর্ভুক্ত রেখে অবশিষ্ট ১২জন নিরপেক্ষ সাধারণ প্রশাসনিক ক্যাডারের জনবল অন্তর্ভুক্ত করে ওয়ার্কিং কমিটি পুনর্গঠনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়– প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও বিভাগে অব্যাহতভাবে মব সন্ত্রাস করে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের শারিরীক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। যা সরকারের সামগ্রিক প্রকৌশল কর্মকান্ডে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাদের মব সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট নেসকো‘র কেপিআইভুক্ত রংপুর প্রধান দপ্তরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ–৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের ইন্ধনে বহিরাগত মব সন্ত্রাসীরা দপ্তরে প্রবেশ করে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষায় শ্লোগান দিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এসময় মব সন্ত্রাসীরা নেসকোতে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যেখানে সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান সরাসরি নেতৃত্ব দেন। অথচ, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারগণ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে মব সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে নির্যাতিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মাকে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সুষ্ঠু প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কটাক্ষ করে অপেশাসুলভ আচরণ বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রশ্নোত্তরে প্রকৌশলী আখেরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি মেনে নিলে তো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হবে এবং এই পদ্ধতিতে পড়ালেখাও বাদ হয়ে যেতে পারে। কেননা, মেট্রোরেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করেছে। এমনকি মামলা করে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি।