পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি লেখেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
ইতোপূর্বে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি (Autonomic Neuropathy) নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে; যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যেই কিছু সময় অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও লেখেন, এসব রোগের প্রাদুর্ভাব ও শারীরিক–মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু প্রায় তিন বছর তিন মাস এই পদে থেকে বিদায় নিতে হলো মো. সাহাবুদ্দিনকে।
পাবনার সন্তান মো. সাহাবুদ্দিনের জন্ম ১৯৪৯ সালে। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে।
ছাত্র জীবনে মো. সাহাবুদ্দিন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের মৃত্যুতে খালি থাকা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনীত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের রয়েছে বিরল এক অর্জন। তিনি শপথ পড়ান ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারেরও শপথ পড়ান তিনি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও শপথ বাক্য পাঠ করান মো. সাহাবুদ্দিন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি বঙ্গভবন থেকে চলে যেতে চান। তিনি বিদায় নিতে আগ্রহী।