সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দেশের চার জেলার ১৫৩ ইউনিয়নকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭ অনুযায়ী যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষানিরীক্ষা ও জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে এসব এলাকা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেশের উত্তর–পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’, ৪০টি ইউনিয়নকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং ৬৬টি ইউনিয়নকে ‘মধ্যম পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পটিয়া পৌরসভার পাঁচটি মৌজা অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এবং তিনটি মৌজা উচ্চ পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সাতটি মৌজা অতি উচ্চ, নয়টি ইউনিয়নের ২৭টি মৌজা উচ্চ এবং আটটি ইউনিয়নের ৩০টি মৌজা মধ্যম পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
এ সকল এলাকায় কঠোরভাবে কিছু নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- খাবার পানি ছাড়া অন্য কোনো কারণে নতুন নলকূপ স্থাপন বা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ,
- বিদ্যমান নলকূপ থেকেও শুধুমাত্র খাবার পানির জন্য পানি উত্তোলনের অনুমতি থাকবে,
- ভূগর্ভস্থ পানিনির্ভর কোনো শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৯ অনুযায়ী তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।