টানা আট দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ডের পরে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বেড়েছে। সামনে তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া অফিস।
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি দাবদাহ বয়ে চলেছে। গরমের সময় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করে চুয়াডাঙ্গা। গত ৮দিন যাবত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। প্রচন্ড দাবদাহে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
গত শীতে বেশ পরপর কয়েকদিন সর্বনিন্ম তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে চুয়াডাঙ্গা। সেসময় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শীতকাল শেষ হতে না হতেই গত কয়েক দিনের টানা দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। জেলাটিতে গরমের তীব্রতায় ছোটবড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। একটু প্রশান্তির খোঁজে গাছের ছায়া ও ঠান্ডা পরিবেশে গা এলিয়ে দিচ্ছেন পথচারীরা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র তাপদাহে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। তবে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন। দুপুরের পর আগুন ঝরা রোদের তেজে সাধারণ মানুষের বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে।
এদিকে গরমে ডায়রিয়া রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অর্ধশাতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত নানা কারণে এই সময়ে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হয়। গরমের মৌসুমে শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর দেবার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গার খুব কাছে কর্কটক্রান্তি রেখা, যার কারণে শীতের সময় শীত বেশি, আর গরমের সময় গরম। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় গড় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রখর এই দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে বৃষ্টির আশায় বুক বেঁধে আছে জেলার মানুষ।
এমি/দীপ্ত