বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

দূর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উপহার, নতুন ঘর পেল দিপালী

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় চণ্ডিগড় ইউনিয়নের বনগ্রামে এক অসহায় উপজাতি পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরের চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দিপালী মানখিন নামের এক উপজাতি নারীকে নতুন ঘর নির্মাণ করে উপহার দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন সুবিধাভোগী দিপালী মানখিন নিজেই। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, চণ্ডিগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বনগ্রামের বাসিন্দা দিপালী মানখিনের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে তাদের সংসার। অভাবঅনটনের কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও মেরামত করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়তো, ভিজে যেতো বিছানাপত্র ও ছেলেমেয়েদের বইখাতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারনা চলাকালীন গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের বনগ্রামে সফরে গিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ওই পরিবারের করুণ দশা নিজ চোখে দেখেন। পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদের পড়াশোনার দুরবস্থা দেখে তিনি ব্যথিত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে তাদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কথা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয় এবং আজ (বৃহস্পতিবার) তাদের কাছে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয়।

নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দিপালী মানখিন ও তার স্বামী। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দিপালী মানখিন বলেন, “ঘরের জন্য আমরা অনেক দুঃখকষ্ট করেছি। বৃষ্টির পানিতে সব ভিজে যেতো। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় আমাদের বনগ্রামে এসেছিলেন। আমাদের ভাঙা ঘর, আমার মেয়েদের পড়াশোনার কষ্ট দেখে তিনি ঘর দেওয়ার কথা বলেন। স্বল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আমাদের ঘরটি করে দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”

দিপালী মানখিনের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে সেতু মানখিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের আগের ঘরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমি যখন পড়তে বসতাম, টেবিলের ওপর বৃষ্টির পানি পড়তো। বাবামা বা আমরা ভাইবোনেরা অনেক কষ্ট করে থাকতাম। স্যার যদি এই মুহূর্তে আমাদের ঘরটি না দিতেন, হয়তো আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি (কায়সার কামাল) আমাদের অভিভাবক হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে আমার বার্ষিক পরীক্ষা। এখন আমি নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারবো। আমি স্যারের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”

সংসদ সদস্যের মানবিক উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় এলাকাবাসীও। সুমন নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, “দিপালী মানখিন অত্যন্ত নিরীহ ও গরীব একজন মানুষ। সন্তানদের পড়াশোনা করানো তাদের জন্য খুব কষ্টের ছিল। এমপি মহোদয় তাদের কষ্ট লাঘব করেছেন। এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে আমরা তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।”

স্থানীয় প্রবীণ এক ব্যক্তি ও আরেক নারী এমপি কায়সার কামালের মহানুভবতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অবহেলিত উপজাতি এক পরিবারের জন্য তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন ও ফুল দিয়ে নতুন ঘরটি সাজানো হয়। উপস্থিত সবার চোখেমুখে ছিল এক অভাবগ্রস্ত পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই পাওয়ার আনন্দ। এমন উদ্যোগের ফলে দিপালী মানখিনের সন্তানদের পড়াশোনার পথ যেমন সুগম হলো, তেমনি পরিবারটি পেল সুরক্ষিত সুন্দর জীবনযাপনের নিশ্চয়তা।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More