রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

দমন-পীড়নের মধ্যেও ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শনিবার নতুন করে রাতভর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন ইরানি নাগরিকরা। রবিবার মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে ‘হত্যাযজ্ঞ’ চালাচ্ছে। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সরকার বিরোধী সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে এই আন্দোলন চলছে।

বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গত জুন মাসে ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটিতে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানসহ ইরানের কয়েকটি শহরে নতুন বিক্ষোভে বিপুল জনতা রাস্তায় নেমেছে। পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে।

ইরানে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এসব ভিডিও বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট না থাকায় মেসেজিং অ্যাপ বা এমনকি ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগকে অসম্ভব করে তুলেছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এখন ৬০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। রোববার সকালে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ইরানিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েকটি প্রচারিত ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়েছে, তেহরানের একটি মর্গে নিহত বিক্ষোভকারীদের লাশ শনাক্ত করছেন তাদের স্বজনরা। তবে এসব ভিডিও যাচাই করতে পারেনি এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬ জনের মৃত্যুর বিষফটি নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা অন্যান্য ৩৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

কিন্তু অ্যাক্টিভিস্টরা সতর্ক করেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে তথ্য প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান বলেছে, ইরানে হত্যাযজ্ঞ (ম্যাসাকার) চলছে। আরও প্রাণহানি রোধে বিশ্বকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

তারা জানিয়েছে, হাসপাতালগুলো অতিমাত্রায় চাপের মুখে, রক্তের মজুদ কমে যাচ্ছে এবং অনেক বিক্ষোভকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখে গুলি করা হয়েছে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া মন্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসকান্দার মোমেনি জোর দিয়ে বলেন, ভাঙচুরের ঘটনা কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা প্রতিবাদকে ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা জনগণের কণ্ঠস্বরকে শুনতে দিচ্ছে না।

জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদরেজা রাদানের বরাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশ বলেছে, কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতে বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে। তবে কতজন বা কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে মাংসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং কিছু দোকান খোলা থাকলেও অনেকগুলো বন্ধ রয়েছে। যেগুলো খোলা থাকে সেগুলোকে বিকেল ৪টা বা ৫টার মধ্যে বন্ধ করতে হয়। তখন নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে মোতায়েন হয়।

শনিবার মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রায় সব ধরনের যোগাযোগ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সর্বশেষ শাহএর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি রোববার নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাস্তা ছেড়ে যাবেন না। আমার হৃদয় আপনাদের সঙ্গে আছে। আমি জানি খুব শিগগিরই আমি আপনাদের পাশে থাকব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেবেন।

রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা আঘাত হানবে।

তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় দখলকৃত ভূখণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌবাহিনীর কেন্দ্রগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।

দখলকৃত ভূখণ্ড’ শব্দগুচ্ছ দ্বারা তিনি সম্ভবত ইসরাইলের কথাও উল্লেখ করেছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র এ ভূখণ্ড স্বীকৃতি দেয় না এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More