মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইয়েমেনের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। দেশটির সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) আগামী দুই বছরের মধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে উত্তর থেকে পৃথক করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন ভাষণে গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট এইদারুস আল–জুবাইদি এই লক্ষ্য ও রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
আল–জুবাইদি বলেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্বাধীনতা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা দুই বছর মেয়াদি একটি রূপান্তরকাল শুরু করছি।’
তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনা হবে এবং শেষে দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি গণভোট আয়োজন করা হবে।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ‘আলোচনা উপেক্ষা করা হলে বা দক্ষিণাঞ্চলে হামলা অব্যাহত থাকলে দুই বছর অপেক্ষা না করেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হতে পারে।‘
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সীমান্তবর্তী হাদরামাউত প্রদেশে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেখানে সৌদি সমর্থিত জোট বাহিনী ও এসটিসি যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ওয়াদি হাদরামাউত অঞ্চলের এসটিসি প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক অভিযোগ করেছেন, আল–খাসা এলাকার একটি শিবিরে সৌদি জোটের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এসটিসি দাবি করছে, সৌদি সমর্থিত বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্দখলের জন্য বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। গত মাসের শুরুতে ইয়েমেনের বৃহত্তম প্রদেশ হাদরামাউত নিজেদের দখলে নেয়ার পর থেকেই সৌদি জোটের সঙ্গে এসটিসির সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়।
এদিকে ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এসটিসিকে মুকাল্লা বন্দরের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ করছে। যদিও আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তেজনার অংশ হিসেবে ইয়েমেন সরকার সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছে এবং দেশটিতে অবস্থানরত আমিরাতি বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গঠিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল শুরু থেকেই দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবিতে সক্রিয়। ঐতিহাসিকভাবে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ইয়েমেন একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বশীল ছিল। ১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন একীভূত হলেও রাজনৈতিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক অবহেলা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পুনরায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে।