পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৫ ডিগ্রি রেকর্ড করেছে। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উত্তরের জেলা পাবনায় প্রতিদিনই তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগের শিশু ও বয়স্ক রোগী সংখ্যা। দিন মজুরি শ্রমিকেরা তীব্র শীতের কারনে কাজ পাচ্ছে না। শীত নিবারণের জন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা গরম কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন পুরাতন কাপড়ের হকার্স মার্কেট গুলোতে। বাড়িআঙিনা বা দোকানপার্টের সামনে কেউ কেউ খড়কুঠো বা কাঠে আগুন জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছেন। মৃদু শৈত্য প্রভাব বয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে ঘন কুয়াশা বা তীব্র কুয়াশা না থাকলেও হিমেল হাওয়া কনকনে শীতে নাস্তানাবুদ অবস্থা।
সকালে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে। শিশু ও বয়স্ক রোগী বেড়েই চলেছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শয্যা না থাকায় শিশুদের এবং বৃদ্ধদের মেঝেতে বিছানা দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ টি বেড থাকলেও অধিকাংশ বেডই নষ্ট। জোড়া তালি দিয়ে এক বেডে ৩ জন করে শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডেই প্রায় দেড়শ রোগী ভর্তি করা হয়েছে এবং যাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে যে পরিমাণ শীত বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে তা নিতান্তই অপ্রতুল।
ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর দাবি সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতপত্র বিতরণ করা। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই হকার্স মার্কেট গুলোর গরম কাপড়ের দোকানপাট খুলতে শুরু করে। গভীর রাত পর্যন্ত এ সকল দোকানপাট থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা গরম কাপড় কেনায় ব্যস্ত থাকেন। এদিকে এখন কৃষকেরা সরিষা উত্তোলন শুরু করেছেন। জমি তৈরী করছেন ইরি আবাদের পাশাপাশি পাট ও ভুট্টা চাষের। অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনমজুর না পাওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার। পাশাপাশি গরম কাপড়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষায় গরম কাপড় পরিধান করার।
আহমেদ সিদ্দিকী