কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপকূলে জেলেদের একটি টানা জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১০৯ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, যা বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকায়। তীরে মাছগুলো নেওয়া হলে তা দেখতে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদ মালিকানাধীন জালে মাছগুলো ধরা পড়ে বলে জানান টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভী হাফেজ আহমদ মালিকানাধীন টানা জালে ধরা মাছগুলো প্রতি মণ সাড়ে ৭ হাজার টাকা দরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী এখলাস মিয়া কিনে নেন। মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৮ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। এসব মাছ পরিষ্কার করে শুঁটকিতে রূপান্তর করা হবে এবং পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বাজারে পাঠানো হবে।
জালের মালিক মৌলভী হাফেজ আহমদ বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় হঠাৎ করে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। জালে প্রায় ১০৯ মণ মাছ ধরা পড়ছে। অন্য সময়ের চেয়ে এবার বছরের শুরুতে জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন মাছ ধরা পড়ায় উপকূলের জেলেরা আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন।
মাছ ব্যবসায়ী এখলাস মিয়া বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শীতকালীন এই সময়ে সাগরে ছুরি মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ বেশি পাওয়া যায়। এসব মাছ শুঁটকি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
নৌকার মাঝি মো. ইসলাম বলেন, ‘এত মাছ পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। যদি এভাবে কয়েকদিন মাছ পাই, তাহলে আমাদের আর অভাব–অনটনে থাকতে হবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
মৎস্য কর্মকর্তা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলের জালে প্রায় ১০৯ মণ বিভিন্ন প্রজাতির ফাইসা ও ছুরি মাছ ধরা পড়েছে। ছুরি মাছ দিয়ে প্রচুর শুঁটকি উৎপাদন হয়। শীতকালে ছুরি মাছ সাগরে প্রজনন বেশি হয়।’
এসএ