বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জামায়াতের আমিরের বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন— ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ–প্রধান মনিকা বাইলাইতে।
এ সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আগামী নির্বাচন। আমরা বলেছি যে, বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি। ৫৫ বছর ধরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে, দেশে নতুন করে ক্রাইসিস তৈরি হবে। গত ১/২ সপ্তাহ ধরে ল’ এনফোর্সিং বাহিনী বা প্রশাসন যেভাবে একটা দলের আনুগত্য দেখাচ্ছে, তাতে পাতানো নির্বাচন হবে কি–না, আমরা সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছি।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, আমরা সবার প্রতি অনুরোধ করি, তারা যেন এখনই নিরপেক্ষ হয়। তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তারা সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যা করার দরকার, জামায়াত তা তার করবে।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, আপনারা জানেন যে ইইউ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের হাইয়েস্ট ডোনার। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আমরা বলেছি, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে, সকল স্টেক হোল্ডাররা মিলে এর একটি স্থায়ী সমাধান করবো।
জাতীয় সরকারের ব্যাপারে বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা হয়েছে কি–না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করছি।
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের কারণে নির্বাচনের শঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনারাও তো এগুলো দেখছেন।
সেক্ষেত্রে কি নির্বাচনে যাবেন না বা এ ধরনের কোন সম্ভাবনা আছে কি–না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সেই পর্যায়ে যেতে হবে না বলেই মনে করছি।