ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী।
তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার ও সহকারি সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। তাদের হারে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
তবে হেরেও ইতিবাচকভাবে জামায়াতের প্রার্থীদের কেউ কেউ বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন।
খুলনা–৫ আসনে নির্বাচনে ২ হাজার ৬শত ৮ ভোটে হেরে গেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির আলি আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
অপরদিকে সুনামগঞ্জ–২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) হেরে গেছেন মোহাম্মদ শিশির মনির। শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। এই আসনে জয় লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে শিশির মনির।
এক ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির লেখেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
এদিকে হেরে গেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদও। কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতবদিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে হেরেছেন তিনি। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট। আর হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। ১২৪ কেন্দ্রের প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে এই ফল জানা গেছে।
তবে ঢাকা–১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহজে জিততে দেননি জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। পাঁচটা থানা মিলে ঢাকা–১৭ আসনে ৩ থানাতে ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তারেক রহমান। ভাষানটেক থানার ২২ কেন্দ্রে ৮৪০, পল্লবী থানার ৪ কেন্দ্রে ১৭৫৯ এবং ক্যান্টেনমেন্ট থানার ৩০ কেন্দ্রে ২৭১৩ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজের এক পোস্টে ডা. খালিদুজ্জামান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বিজয় মানে কথা রাখা আর প্রত্যাশা পূরণের এক মহা পরীক্ষার সূচনা। আমি আশা করি– তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ কোনো সহযোগিতা করতে পারলে তা হবে আমার সৌভাগ্য। আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবো। আপনাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। যোগ–বিয়োগের খেলায় আমি হেরে গেলেও আপনারাই বিজয়ী হয়েছেন। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো– ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন।“
বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২১২ আসন, জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৬ আসন।