প্রতিবেশীদের কাছে তাঁর পরিচিতিই ছিল ‘প্রেগন্যান্ট ম্যান’ হিসাবে। ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের বাসিন্দা সঞ্জু ভগৎ। বয়স এখন ৬০ বছর। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তার গর্ভে ছিল তারই জমজ ভাইয়ের ভ্রূণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৯৯ সালে। হঠাৎ করেই ভগতের পেট ফুলতে শুরু করে। একটা সময় পেটের আকার বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছাল যে শ্বাস নিতেও সমস্যা হতে শুরু করল তার। দেরি না করে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।
চিকিৎসকরা অনুমান করেন, ভগতের পাকস্থলীতে একটি টিউমার রয়েছে যা ক্রমশই বাড়ছে। চিকিৎসা শুরু করার পর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকরা ভাবেন হয়তো ক্যানসার বাসা বেঁধেছে তার দেহে। তারা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে যেটাকে চিকিৎসকরা টিউমার বলে ভেবেছিলেন, সেটা আসলে আস্ত মানব ভ্রুণ। তার হাত–পা তৈরি হলেও বাকি গঠন সম্পূর্ণ হয়নি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় প্রাথমিকভাবে ভ্রূণটির একটি হাত বেরিয়ে আসে। পরে আরও একটি হাত বেরিয়ে আসে। এরপর আস্তে আস্তে যৌনাঙ্গের কিছু অংশ, চুল, পা ও চোয়ালের হাড়গোড় বেরিয়ে আসতে থাকে। তারা বলেন, আমরা এই ঘটনায় ভীষণ ভয় এবং বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
তারা আরও জানান, এই ধরণের ঘটনা খুবই বিরল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরণের পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ফিটাস ইন ফিটু’। মাতৃগর্ভে যখন যমজ সন্তান বড় হয়, তখন কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার কারণে একটি ভ্রূণ ঢুকে যায় অন্যটির শরীরে। সেই ভ্রূণটি পূর্ণতা না পেলেও তাকে শরীরে নিয়েই বেড়ে ওঠে অন্য ভ্রূণটি।
এভাবেই যমজ ভাইকে শরীরে নিয়েই জন্ম নিছিলেন ভগৎ। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৩৬ বছর সেই ভ্রূণ রয়ে গিয়েছিল তার শরীরের ভিতর। তবে অস্ত্রোপচারের পর থেকে সুস্থ আছেন ভগৎ।
এসএ/দীপ্ত নিউজ