প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে গণভবনের পাশেই একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। স্থাপত্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।
জানা গেছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর।
নতুন বাসভবনটি ব্যবহার উপোযোগী হতে দুই–তিন বছর সময় লাগতে পারে। ততোদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।
পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় যা পরবর্তীেত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে তৈরির উদ্যোগ নেয়। জাদুঘর তৈরির কাজ শেষের পথে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যে এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তার কারনে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশায় কোনো পরিবর্তন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা কিছু জানাননি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণ ঘিরে গণপূর্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, কারিগরি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটির দুটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে এবং বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন– এ দুটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবনের জায়গার বিষয়ে তিনটি স্থান আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মত আসে গণভবনের পশ্চিম–উত্তর পাশে থাকা একটি জায়গা, যেটির অবস্থান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস লাগোয়া। সেখানে প্রায় ১৮ একর জমি রয়েছে। ওই জমির একাংশে সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের উন্মুক্ত স্থান এবং আগারগাঁও–শ্যামলী সড়কের দক্ষিণ পাশে সংসদ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার ভেঙে সেখানে বাসভবন তৈরির প্রস্তাব আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসসংলগ্ন জায়গাটি চূড়ান্ত করেন কমিটির সদস্যরা।