কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন–বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম) বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, “দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তার মধ্যে একটি বিভাগীয় এবং অপরটি জোনাল। ৬ জন করে দুটি কমিটিতে ১২ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) আনিসুর রহমানকে। অন্যরা হলেন– বিভাগীয় প্রকৌশলী–১ (চট্টগ্রাম) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রেজওয়ান–উল–ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম) আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (চট্টগ্রাম) ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (চট্টগ্রাম) মো. শহীদ উল্লাহ।
অপরদিকে জোনাল কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে। কমিটির অন্যরা হলেন– চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগনাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিকেল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।