কিশোরগঞ্জে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ যানবাহন ব্যবহারকারীরা। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেককেই একাধিক পাম্পে ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অন্তত ১০টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কিছু পাম্পে তেল নেই লিখে নোটিশ টানিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও পাম্প খোলা থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, ডেলিভারি রাইডার এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীলদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকরা, সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তবে পাম্প মালিকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় জ্বালানির সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের মালিক লুৎফুর রহমান চৌধুরী হেলাল জানান, আগের তুলনায় তারা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি আমদানি করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে হঠাৎ গ্রাহক বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানি মজুত রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই প্রশাসনের তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রাহুল সরকার জানান, তারা ইতোমধ্যে তিনটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পাম্পে কী কারণে সমস্যা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই সমাধান করা হবে।
মশিউর রহমান/এজে/দীপ্ত সংবাদ