‘নিকোটিন, একজন ধূর্ত পুতুলনাচের মালিকের মতো, তার পুতুলগুলিকে তার সুতোয় বেঁধে রাখতে জানে—যখন তুমি তার সেই সব কল্পিত সুবিধাগুলোতে বিশ্বাস করো, যেগুলো শুধুমাত্র সেইসব মানুষরাই অনুভব করে যারা এখনও এর আসক্তিতে বাঁধা।’
এটি বলেছেন, লেখক ডেভিড মাজুরকিউইজ (সান্তা ওয়াজ রিয়াল)।
সত্যিই কি তাই? চেম্বারে এক কিশোরের ঘটনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা যাক।
“আন্টি, আমার বাবা এবং দাদা দুজনেই নিয়মিত ভেপ করেন। আমি করলে সমস্যা কোথায়? বন্ধুবান্ধবদের কাছে একটা তো স্ট্যাটাস থাকতে হয়। না হলে ওরা হাসাহাসি করে। বাবা দাদা নিজেরা যেটা করেন, আমাকে কেন মানা করেন?”
সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ মুখ। ঝকঝকে চোখ। হাল ফ্যাশনের চুলের কাট।
বসার পর থেকেই সে বাম হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান পায়ের উপর তবলা বাজাচ্ছে।
মনোযোগ ঘটতি প্রবল।
“তোমার কেমন লাগে যখন বাবা দাদা নিজেরা ভেপ করে, তোমাকে ভেপ না করতে করতে নিষেধ করেন?” নরম গলায় জানতে চাইলাম।
“ছোটবেলায় রাগ হত। এখন হাসি পায়। মনে হয় মোনাফেক। ওই যে বাংলায় একটা কথা আছে না, যাই বলো না কেন, তালগাছটা আমার।“
তাচ্ছিল্যের একটা হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটের কোণে। খেয়াল করে দেখলাম, যেই অভ্যস্ত ভঙ্গিতে ঠোঁটের কোণ বেঁকে গেল, তার মানে ইতিমধ্যেই অন্যকে তাচ্ছিল্য করা মজ্জাগত জায়গায় পৌঁছে গেছে।
“মা কি বলেন তোমাকে?” চোখে চোখ রেখে স্পষ্ট গলায় জানতে চাইলাম।
“মা আর কি বলবেন? ছোট ছিলাম তখন ঠাস ঠাস করে মারতো। এখন তো আমি অনেক লম্বা হয়ে গেছি। মা নাগালে পায় না।
এত কথা শুনতে ভালো লাগে না আন্টি। মা তো বাবাকে কিছু বলে না, দাদাকে কিছু বলে না, আমি ইনকাম করি না তাই?”
কিশোর কণ্ঠে তীব্র উস্মা।
“তোমার অনেক রাগ হয় তাই না?” নরম গলায় জানতে চাইলাম।
“হ্যাঁ! কারণ আমাকে যেটা উপদেশ দেয় না, নিজেরা সেটাই করে।“
আবার সেই তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে অভ্যস্ত ঠোঁট বাঁকা করা।
“কেন, কিভাবে? পয়সা পাও কোত্থেকে?” কৌতুহলী সুরে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলাম।
“ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, আন্টি!”
“তা ঠিক! আর কি কি ইচ্ছা করে?” স্মিত মুখে জানতে চাইলাম।
“আপনি সত্যিই আমার বাবা–মাকে কিছু বলবেন না?”
আমার কাছে তার চোখ দুটো কেন জানি বিভূতিভূষণের নিশ্চিন্তপুরের অপর চোখের কথা মনে হলো।
“আমাকে আজকেই বিশ্বাস করার দরকার নেই। সময় নাও। যে কথাগুলো কাউকে বলতে পারো না, সেগুলো যদি বলার মতো আস্থা অর্জন করতে পারি তোমার কাছে, শুধুমাত্র তখনই বলো। আগে একটু পরীক্ষা করে দেখে নাও আমি কেমন?”
ফিক করে হেসে দিলো।
এই প্রথম কিশোরটিকে হাসতে দেখলাম। ঝিক করে ডান দিকের গজ দাঁত ঝলসে উঠলো। দেখি ওখানে একটি স্টোন বসানো। তা দেখে মনে করার চেষ্টা করলাম হাল আমলের কোন এক পপ তারকাকে, যার দাঁতের স্টোন বসানো আছে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে। হঠাৎ মাথায় ঝিলিক দিয়ে উঠলো ব্ল্যাক স্টোন গ্রুপ।
“তুমি কি পপ মিউজিক শোনো? লিসার ভক্ত নাকি?”
প্রচণ্ড বিস্ময়ে কিশোরটি বলল, “আন্টি, আপনি লিসার নাম জানেন?”
হাসতে হাসতে বললাম, “হ্যাঁ, আমি ডাইনোসর আমলের হতে পারি, কিন্তু মন্দ লাগে না লিসাকে।“
“আন্টি, আপনি জানেন আপনি আমার কয় নাম্বার থেরাপিস্ট? ৫ নাম্বার! একেকবার একেকজনের সাথে কয়েকটা করে সেশন হয়, তারপর আমি বন্ধ করে দিই। অথচ আপনি লিসাকে চিনেন?”
“চিনি বললে ভুল হবে, সম্ভবত উনি কোরিয়ান নন তাই না? কিন্তু দেখতে বেশ লাগে।” হেসে ফেললাম।
শীতের সকাল।
“চা খাবে?” জানতে চাইলাম।
“ব্ল্যাক কফি হবে?”
“অবশ্যই!”
কফি এলো।
বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দুজনে।
টের পেলাম কিশোরের ছটফটানি বন্ধ হয়েছে। গোল গোল চোখে আমার চেম্বারের চারপাশ খেয়াল করছে।
আমি জানতে চাচ্ছিলাম, “তোমার কি কি ইচ্ছা করে?”
কিশোর কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমিও স্থির চোখে তার চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম। বেশ বুঝতে পারছি, এই তাকানোটাই আমাকে মাপার তার প্রথম ধাপ।
বেশ কিছুক্ষণ পরে, শোনা যায় কি যায় না এমন মৃদুস্বরে বললো, “আমার মনে হয় গুলি করে আমার মাকে উড়িয়ে দেই।“
এরপর সে চুপচাপ থাকে।
সময় দিলাম ওকে ধাতস্থ হতে। কারণ স্পষ্ট বুঝতে পারছি এই কথা কখনোই সে কাউকে বলেনি।
“আন্টি, আপনি জানেন ফায়ার আর্মস নিয়ে কেন আমেরিকায় ছেলেমেয়েরা গুলি করে অপরিচিত মানুষদের? যেখানে অপরিচিত মানুষদের প্রতি এত বিদ্বেষ, সেখানে যখন প্রতিদিন কানের কাছে টিক টিক করে, উপদেশের পর উপদেশ, দোষের পর দোষ ধরা, কার বাচ্চা কোথায় ভালো করল সেই তুলনা, পা ধোয়া পানি খেতে বলা! আমি আর জাস্ট নিতে পারছি না!” শেষের দিকে গলাটা ধরে আসলো।
আমি এই মুহূর্তটিরই অপেক্ষা করছিলাম। উঠে মাথায় হাত রাখলাম।
আকুল কণ্ঠে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে, ভেজা গলায় কিশোর বলল, “আমি খুব বাজে ছেলে তাই না, আন্টি? অপদার্থ?”
তারপর সেই কাউন্সেলিং টেবিলের গল্প।
কৈশোরের দাবি, তার কথা কেউ শুনুক। শুধু ভালো কাপড়, ভালো স্কুল, দামি খেলনা, ভালো জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কৈশোরের মনোসামাজিক চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ নয়।
আলোচ্য কিশোরটি অ্যান্টি সোশ্যাল পার্সোনালিটি ডায়াগনোসিস করা বা কোনো অসুস্থতার ট্যাগলাইন দেওয়া সহজ। কিন্তু দিনের পর দিনই কিশোরের ভেতরে ঘুমড়ে ওঠা কথাগুলো বের করে আনাটাই তারও থেকে বেশি জরুরি।
প্রবাদ বাক্য আছে, যেখানে জ্ঞানের আলো পৌঁছায় না, সেখানেই সবচেয়ে বেশি বিস্ময় লুকিয়ে থাকে।
কাজেই কিশোরকে বললাম, “চলো দেখি, ভেপিং সম্পর্কে আমি কি জানি বলি আর বাকিটা আগামী সেশনে তুমি খুঁজে এসে আমাকে বলবে। আমাদের দুজনেরই একটু জানাশোনা হবে ভেপিং সম্পর্কে।”
ভেপিং কী?
ভেপিং হল একটি ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপ ডিভাইস ব্যবহার করে অ্যারোসল (ধোঁয়া নয়) গ্রহণ করার প্রক্রিয়া। এই ডিভাইসগুলোতে সাধারণত একটি ব্যাটারি, একটি উত্তপ্ত হওয়ার উপাদান এবং ই–লিকুইড রাখার জায়গা (যেমন কার্ট্রিজ বা পড) থাকে। ই–লিকুইড দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে অ্যারোসল বা বাষ্পে পরিণত হয়, যাতে সাধারণত নিকোটিন, ফ্লেভারিং এবং অন্যান্য রাসায়নিক থাকে, এবং ব্যবহারকারী এটি ফুসফুসে টানে।
ভেপিং আবিষ্কারের গল্পটিও অন্যরকম। বর্তমান সময়ের বাণিজ্যিকভাবে সফল ই–সিগারেট তৈরি করেছেন চীনা ফার্মাসিস্ট হন লিক। হন লিক–এর আবিষ্কারের পেছনের গল্পটি ব্যক্তিগত ও আবেগপ্রবণ। তার পিতার মৃত্যু তাকে ধূমপান ছাড়ার একটি নিরাপদ উপায় খুঁজতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ডিজাইনে একটি আল্ট্রাসনিক ঘূর্ণায়মান উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল যা নিকোটিন–মিশ্রিত তরলকে বাষ্পে পরিণত করত। ২০০০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, এই পণ্যটি প্রথম ইউরোপে এবং তারপর ২০০৬–২০০৭ সালের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবর্তিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে ভেপিং সংস্কৃতির সূচনা করে। এর সাফল্য আংশিকভাবে ডিভাইসটিকে ধূমপান ত্যাগের একটি সহায়ক হিসেবে বাজারজাত করার কারণে হয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, জনগণের পর্যায়ে ধূমপান ত্যাগের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ই–সিগারেটের কার্যকারিতার কোনো প্রমাণ নেই। বরং তারা ধূমপান ত্যাগের কৌশল (যেমন, কাউন্সেলিং, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি) ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভেপিং–এর ব্যাপারে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে। তারা বলছে—ই–সিগারেট থেকে নির্গত অ্যারোসলের মধ্যে নিকোটিন ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যা ব্যবহারকারী এবং পরোক্ষ ধূমপায়ী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। শিশু ও কিশোর–কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
ভেপিং কীভাবে আসক্তি সৃষ্টি করে?
“নিকোটিন মস্তিষ্কের পুরস্কারপ্রাপ্তির পথে দ্রুত আঘাত হানে, ব্যবহারকারীকে বারবার ফিরে আসতে প্ররোচিত করে।“
মস্তিষ্কে পৌঁছে নিকোটিন নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়। এটি ডোপামিন নামক একটি নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। ডোপামিন আনন্দ, সন্তুষ্টি এবং পুরস্কারের অনুভূতি তৈরি করে। মস্তিষ্ক এই আনন্দদায়ক সংকেতের সাথে ভেপিং–এর কাজটি যুক্ত করে এবং পুনরায় একই অনুভূতি পাওয়ার জন্য বারবার ভেপ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সময়ের সাথে সাথে, মস্তিষ্ক স্বাভাবিক ডোপামিন উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং শুধু নিকোটিনের মাধ্যমেই “স্বাভাবিক” অনুভব করার জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়ে—এটাই আসক্তির মূল ভিত্তি।
মানুষের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস হলো স্মৃতি গঠন ও সংরক্ষণের মূল কেন্দ্র। এটি নতুন কিছু শেখা, অভিজ্ঞতা মনে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে রূপান্তর করার কাজ করে। বিশেষ করে কিশোর–কিশোরীদের বিকাশমান মস্তিষ্কের জন্য হিপোক্যাম্পাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ে শেখার ক্ষমতা, চিন্তা করার দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়।
এছাড়া ভেপিং–এ থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করে। ভেপিং সরাসরি হিপোক্যাম্পাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক প্রদাহ সৃষ্টি করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে নতুন স্মৃতি গঠন ও তথ্য ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, যা শিক্ষার্থীদের শেখা ও মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। এছাড়া এটি উদ্বেগ বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের পুরনো স্মৃতি সংরক্ষণকারী কোষগুলোর কার্যকারিতা দুর্বল করে দেয়।
নিকোটিন সম্পর্কে ভুল ধারণা:
অনেক তরুণ–তরুণী বিশ্বাস করে যে ভেপিং শুধু “সুগন্ধি বাষ্প” বা প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে অনেক নিরাপদ, এবং এতে নিকোটিনের উপস্থিতি বা আসক্তির শক্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন নয়।
ভেপিং–এর নিউরোলজিক্যাল, শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি:
একটি কেস রিপোর্টে এক তরুণের ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতির ঘটনা উঠে এসেছে, যার একমাত্র কারণ ছিল ভেপিং। ইভিএএলআই (ই–সিগারেট বা ভ্যাপিং ব্যবহার–সম্পর্কিত ফুসফুসের আঘাত) নামে পরিচিত ফুসফুসের গুরুতর আঘাতের ঘটনা ২০১৯ সালে ধরা পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২,৮০৭টি কেস এবং ৬৮টি মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার অনেকগুলোরই সম্পর্ক ভিটামিন ই অ্যাসিটেট (ভেপিং তেলে ব্যবহৃত একটি ঘনকারক) এর সাথে পাওয়া গেছে। এটি ভেপিং–এর মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
কিশোর বয়সে ভেপিং–এর ক্ষতি:
ভেপিং করা কিশোর–কিশোরীদের হতাশা ও আত্মহত্যার চিন্তার হার অনেক বেশি। একটি গবেষণা অনুসারে (চাদি ও সহকর্মীদের করা) ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় (২৬,৮২১ জন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপর) দেখা গেছে, যারা শুধু ভেপিং করে তাদের মধ্যে, যারা করে না তাদের তুলনায় হতাশার লক্ষণ (৩৭% বেশি সম্ভাবনা) এবং আত্মহত্যার চিন্তা (২৩% বেশি সম্ভাবনা) দেখা দেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি কিশোর বয়সে ভেপিং–এর মারাত্মক মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রমাণ দেয়।
আমি যদি আমার সন্তানকে ভেপিং থেকে বিরত রাখতে চাই, তাহলে কী করব?
- খোলামেলা আলোচনা করুন: ভয় বা শাস্তির পরিবর্তে তথ্য ও উদ্বেগের ভিত্তিতে কথা বলুন। ভেপিং–এর স্বাস্থ্য ঝুঁকি (মস্তিষ্কের ক্ষতি, আসক্তি) এবং কোম্পানিগুলো কীভাবে তরুণদের লক্ষ্য করে সে সম্পর্কে সচেতন করুন।
- উদাহরণ সৃষ্টি করুন: আপনি নিজে যদি ধূমপায়ী বা ভেপার হন, তবে ছাড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তানকে বলুন কেন আপনি এটি বন্ধ করতে চান।
- নিয়ম নির্ধারণ করুন: ঘর এবং গাড়িতে ভেপিং–এর উপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দিন এবং এর কারণ ব্যাখ্যা করুন।
- পেশাদার সাহায্য নিন: যদি মনে হয় আপনার সন্তান ইতিমধ্যেই আসক্ত, তাহলে একজন কাউন্সেলর বা বয়ঃসন্ধিকালীন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
সন্তানদের কথা শোনা জরুরি, কারণ এতে আমাদের সম্পর্কে বিশ্বাস ও বোঝাপড়া গড়ে ওঠে। তাদের অনুভূতি ও চিন্তাকে মূল্য দেওয়া মানেই তাদের ব্যক্তিত্বকে সম্মান করা। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় সমস্যার সহজ ও সৃজনশীল সমাধান দেখায়। যারা সন্তানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছেড়ে শুধু মানুষ হিসেবে সম্মান করতে পারেন, তাদের জন্য সশ্রদ্ধ ভালোবাসা।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার।