আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় (প্রণোদনা) পাবেন ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা।
রবিবার (২ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল–আমিন শেখ।
তিনি বলেন, এনবিআর করদাতাদের সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে নতুন কর প্রণোদনা কার্যকর করেছে। আয়কর আইন, ২০২৩–এর নতুন বিধান অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা করছাড় সুবিধা পাবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতারা আয়কর আইন, ২০২৩–এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাবেন। তবে, এ করছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২৫ হাজার টাকা।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে রিটার্ন দাখিলের সময়ের ওপর নির্ভর করবে করছাড় বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টি।
জুলাই–সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড়।
অক্টোবর–ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে।
জানুয়ারি–মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে জরিমানার পরিমাণ ৩ হাজার টাকার বেশি হবে না।
এপ্রিল–জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২২ জুলাই থেকে ২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ই–রিটার্ন সেবা চালু হয়েছে। এনবিআরের ই–ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ এবং রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।
এনবিআর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
এসএ