জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ১ হাজার ৪০১ জনকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে ‘ক’ শ্রেণিতে এবং গুরুতর আহত ৯০৮ জনকে ‘খ’ শ্রেণিতে রেখে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তালিকা দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তালিকাগুলো শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশ করা হয়। গেজেটে আহতদের মেডিক্যাল কেস আইডি, নাম, বাবা ও মায়ের নাম এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়।
ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ জনের পরিবারের সদস্যরা ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাবেন। চলতি (২০২৫–২৬) অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবার মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে।
মেডিক্যাল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
অন্যের সহায়তা ছাড়া জীবন পরিচালনা সম্ভব, এমন আহতদের ৪৯৩ জনকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা তারা পাবেন চলতি অর্থবছরে এবং আগামী অর্থবছরে পাবেন বাকি ৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতি মাসে তারা ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। সরকারি হাসপাতালে পাবেন আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা।
মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশি–বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগও পাবেন তারা। তাদের প্রত্যেককে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তা দেখিয়ে সব ধরনের সরকারি সুবিধা নিতে পারবেন।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে গুরুতর আহত ৯০৮ জন রয়েছেন। তারা ৩ লাখ করে টাকা পাবেন। এ টাকার মধ্যে চলতি অর্থবছরে ১ লাখ টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ২ লাখ টাকা করে পাবেন। প্রতি মাসে তারা ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
কর্মসহায়ক প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার–ভিত্তিতে কর্মসংস্থান পাবেন। তাদেরও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যা দেখিয়ে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।
‘সি’ ক্যাটাগরিতে আহত ১০ হাজার ৬৪৮ জন রয়েছেন। তারা এককালীন ১ লাখ টাকা করে পাবেন। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। তারা পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন এবং পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা পাবেন।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি অভ্যুত্থানে ৮৩৪ জন শহিদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
এসএ