বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

স্বাধীনতার ঘোষকের নাম ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, তর্কবিতর্ক এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নে আটকবরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

তবে চুয়াডাঙ্গা২ আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমীনের হস্তক্ষেপে তাতক্ষণিক বিষয়টি সমাধান হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণাসহ তার জীবনী প্রচার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে মৌখিক বাকবিতণ্ডা হলেও পরে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী নাটুদাহ হাইস্কুলের এক ধর্মীয় শিক্ষকের দিকে তেড়ে যান এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে নাটুদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শামসুজ্জোহা এবং স্থানীয় বিএনপি সভাপতির ভাই শামসুলের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় হয়।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী এবং সেক্রেটারি মো. টিটন দাবি করেন, তারা শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য, আমরা কোনো সংঘাত চাইনি।

তারা আরও বলেন, একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক এবং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, সরকারি এ আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। তার অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও উপস্থাপক জামায়াতসমর্থিত কর্মী স্বাধীনতার ঘোষকের নাম এড়িয়ে যান, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং সম্মানও দেওয়া হয়নি। একই দিনে দামুড়হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আরেকটি অনুষ্ঠানেও বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুল্লাহ রহমান সাহেল বলেন, নাটুদাহ এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা দুঃখজনক। প্রতি বছরের মতো ফুল দেওয়া ও দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। এখানে আনুষ্ঠানিক কোনো নাম ঘোষণার বিষয় ছিলো না। নাম ঘোষণা তো মাঠের প্রোগ্রামের। কারণ আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গেছি। প্রথমে পতাকা উত্তোলন, এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। তারপর স্থানীয় বিএনপির দাবি করেছিলোনাম ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও আমরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাম ঘোষণা করে বর্ণনার ধারা বিবরনী দিয়ে প্রোগ্রাম শেষ করা হয়েছে। পরে সব ঠিক হয়ে গেছে।

হুসাইন মালিক

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More