সৌদি আরবের কাছে সর্বোচ্চ ৪৮টি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো কোনো আরব দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি হবে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নন–ন্যাটো মিত্র। প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সৌদি আরবের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) কয়েক মাস ধরে সৌদি আরবের এফ–৩৫ কেনার উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছিল। গত বছরের নভেম্বরে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় এফ–৩৫ বিক্রির বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউসে সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হয়।
এরপর গত ডিসেম্বরে এমইই জানায়, সৌদি আরবকে এফ–৩৫ দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির আগে ইসরায়েলের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের ক্যাপিটল হিলে একাধিক বৈঠকও করেন।
চুক্তি এগিয়ে নিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান চলতি গ্রীষ্মে কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা এমইইকে জানিয়েছেন।
তবে এমন সময়ে এ অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা এল, যখন ইয়েমেনের হুথিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরব নতুন করে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারও হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সমস্যায় পড়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের কাছে এফ–৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করে আসছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত তাঁর অবস্থানের বিপরীতে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের হাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি চীনের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলের কয়েকজন কর্মকর্তা এ ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের ঘোষণার এক দিন আগেও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল নিউইয়র্ক টাইমস।