আগামী ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং দূষণের মতো পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রাণ–প্রকৃতি নিয়ে দীপ্ত সংবাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালীর সংকটাপন্ন জীববৈচিত্র্যের চিত্র।
অবাধে পর্যটক চলাচলের কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালীতে জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এমন একটি অনন্য স্থান, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, লাল কাঁকড়া, কেওড়া বন আর হরিণ প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য তৈরি করেছে। তবে এই সৈকতকে এখনই সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা না হলে অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে হরিণের আবাসস্থল।
এক সময় যা সাগরের গর্জন, বনের পশুপাখির কলকাকলি আর হরিণের বিচরণে মুখরিত ছিল, পর্যটকদের অবাধ বিচরণের কারণে সেই জীববৈচিত্র্য আজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এক পর্যটক বলেন, “পর্যটক সংখ্যা বাড়লে জীববৈচিত্র্যের অবশ্যই অনেক ক্ষতি হবে। হয়তোবা একদিন এই লাল কাঁকড়া বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, “আজকে আমরা অনেকদিন পর আসলাম, কিন্তু এখানে আগের মতো হরিণ দেখা যাচ্ছে না। বরং মানুষ এখন চাষাবাদ করছে এবং গরু–ছাগল বেশি দেখা যাচ্ছে।”
আরেক সচেতন নাগরিকের মতে, “নাগরিক হিসেবে আমরা অনেক অসচেতন। আমাদের উচিত এই সম্পদগুলো রক্ষার দাবি তোলা। দেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের পর্যটন কেন্দ্রগুলো যেভাবে সংরক্ষণ করা উচিত, আমরা তা করতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উচিত এদিকে সুদৃষ্টি দেওয়া।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি সীতাকুন্ড) আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে আমরা চেষ্টা করছি গুলিয়াখালীর পর্যটন খাতটাকে উন্নত করার জন্য। একই সাথে ওখানকার বন্যপ্রাণী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।“
উল্লেখ্য, গুলিয়াখালী ফরেস্ট দেশের দ্বিতীয় জীববৈচিত্র্যের লীলাভূমি। এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করতে এখনই একে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সংরক্ষিত এলাকা‘ হিসেবে ঘোষণার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
মাসউদ/এসএ