শিরোনাম
বর্তমান পৃথিবীতে মৃত্যুর অন্যতম সবচেয়ে বড় কারণ ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’ ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ব্রুক কক্সবাজারে সাগরে ভেসে এল আরেক পর্যটকের লাশ, নিহত বেড়ে ৫ বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে : রুহুল কবির রিজভী ‘সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারি না’, ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিকের গল্প হুতিদের হামলার শঙ্কামার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাজেকে ইউপিডিএফ ৩০-৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে: আইএসপিআর এএফআই আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন টম ক্রুজ যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুইজনকে কারাদণ্ড আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার
দীপ্ত নিউজ
আন্তর্জাতিক

‘সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারি না’, ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিকের গল্প

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
‘সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারি না’, ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিকের গল্প

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। চার স্ত্রীর ঘরে তার ৫৮ সন্তান। কয়েক সপ্তাহ আগেই জন্ম নিয়েছে তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। বিশাল এই পরিবারের ভরণপোষণ করতে গিয়ে প্রতিদিনই আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করার চিন্তায়। সীমিত আয়ের কারণে অনেক সময় সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো তার কয়েকটি সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হয়।

এত বেশি সন্তান নিয়ে সংসার করতে গিয়ে কখনো কখনো তাদের নামও মনে রাখতে পারেন না সাদিক। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, অনেক সময় সন্তানদের নাম ভুলে যান। তাই অধিকাংশ সন্তানকে নাম ধরে না ডেকে ‘বাবা’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সন্তানদের গুনে দেখেন তিনি। সবাই বাড়িতে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়াই এর উদ্দেশ্য।

একবার রাতের খাবারের সময় সন্তানদের গুনতে গিয়ে একজনকে খুঁজে পাননি সাদিক। তবে সেই সন্তান ছেলে না মেয়ে, তাও মনে করতে পারেননি তিনি। পরে সন্তানদের মায়েদের কাছে জানতে পারেন, একজন সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠানো হয়েছে এবং সে সেখানেই রাত কাটাবে।

আরেকবার মেয়ের বিয়ের সময় বিয়ে পড়ানো মৌলভি তার কাছে মেয়ের নাম জানতে চান। কিন্তু সাদিক ভুল করে অন্য এক মেয়ের নাম বলে বসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে মৌলভি তাকে বাড়ি গিয়ে নামটি যাচাই করে আসতে বলেন।

সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চার স্ত্রীর প্রত্যেকের বয়স বিয়ের সময় ছিল মাত্র ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাদের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান ও লালন–পালনের দায়িত্ব পালন করে।

সাদিকের প্রথম বিয়ে হয় তার ২০ বছর বয়সে। পরবর্তী বিয়েগুলোর জন্য কনের পরিবারকে দেওয়ার অর্থ জোগাড় করতে তাকে কয়েক বছর ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তার দাবি, বেশি সন্তান নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো।

তবে এত বড় পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গভীর বেদনা। বছরের পর বছর ধরে সাদিক ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানকে হারিয়েছেন।

পরিবারটির রান্না হয় দিনে মাত্র দুবার— সকালে ও সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই নারী রান্নার দায়িত্ব সামলান। ছোট–বড় সবাই একসঙ্গে থাকায় বাড়িটি প্রায়ই কোলাহল ও হাসিতে মুখর থাকে। সাদিকের ভাষায়, সন্তানরা তাকে ঘিরে জড়ো হলে মনে হয় যেন বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবারটির থাকার পরিবেশও অত্যন্ত সাধারণ। ঘরে পর্যাপ্ত সুযোগ–সুবিধা নেই। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও বাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়, একই জায়গা শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

শীতের রাতে কখনো ছয়–সাতজনকে একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমাতে হয়। ঘরগুলোতে জানালা নেই, দরজাও মজবুত নয়। প্রবেশপথে ঝোলানো রয়েছে শুধু একটি পাতলা পর্দা। জ্বালানি হিসেবে তারা মূলত কাগজ ও হাতের কাছে পাওয়া অন্যান্য উপকরণ পোড়ান।

সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। প্রতিটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান। এত বড় পরিবারের খরচ মেটানোর জন্য এই আয় যথেষ্ট নয়।

সংসারের ব্যয় সামলাতে তার অনেক সন্তানও কাজ করে। তারা কাগজ, প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করে। এসব উপকরণ কখনো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার কখনো বিক্রি করে পরিবারের খরচে কিছু অর্থ যোগ করা হয়।

নিজে পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন সাদিক। কিন্তু সীমিত আয়ের কারণে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা ছাড়েননি সাদিক। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে তিনি সরকার, বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি চাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, তার সন্তানরা যেন পড়াশোনা করতে পারে এবং ধর্ম ও পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। দ্বিতীয়ত, কোনো সন্তানকেই যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে না হয়।

বিপুলসংখ্যক সন্তান নিয়ে তার পরিবারে প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। আর সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সন্তানদের জন্য শিক্ষা, খাবার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখছেন মোহাম্মদ সাদিক।

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।