দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। এবারের সংসদে সরকারদলীয় নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি এবং প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যাবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে আজকের অধিবেশনে শহীদ গোলাম নাফিজের রিকশাচালকসহ চারজন শহীদ পরিবারের সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রীতি অনুযায়ী পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। বর্তমান সংসদে স্পিকার না থাকায় একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হবে।
অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যসূচি রয়েছে। নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে এবং তারা দায়িত্ব গ্রহণ করে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
২. সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন: সংসদীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।
৩. শোক প্রস্তাব: প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
৪. অধ্যাদেশ উত্থাপন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংবিধানের ৯৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ এগুলো অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে।
৫. বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ২০২৪ সালের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।
৬. সংসদীয় কমিটি গঠন: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হবে।
৭. রাষ্ট্রপতির ভাষণ: সবশেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন, যার ওপর পরবর্তীতে সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম অধিবেশন প্রায় এক মাস স্থায়ী হতে পারে।