বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলার পরিপ্রেক্ষিতে নিজ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার যদি মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।’’
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ‘কে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন এবং বিদেশি গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ‘নির্বাচনের পর আর এখানে থাকতে চান না’ এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্যটি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি যেভাবে বলেছি, সেটি সেই প্রেক্ষাপটেই বোঝা দরকার। গত ১৮ মাসে ওই (অন্তর্বর্তী) সরকার আমাকে যে রকম মানসিক চাপ দিয়েছে, নানা ঘটনায় আমাকে অপমানিত করা হয়েছে, সে কারণে আমার মনে এক ধরনের ক্ষোভ জন্মেছিল। তখনই আমি বলেছিলাম, এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে। এই কথাটাই আমি রয়টার্সকে বলেছিলাম। কিন্তু পরে এটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যেন আমার মেয়াদ নেই।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, প্রশ্ন করা হলো— নির্বাচন হলে, নতুন সরকার এলে আপনার অবস্থান কী হবে? তখন আমি বলেছি, আমি সাংবিধানিকভাবে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত; আমার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। মানে আমার মেয়াদ আরো ২ বছর আছে। তবে আমি এটাও বলেছি, যদি একটি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তাদের অভিপ্রায় থাকে যে আমি না থাকাই ভালো, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত। আই লাভ টু গো। মানে, তারা সে রকম ইচ্ছা পোষণ করলে আমি নিজে থেকেই চলে যেতে চাইব।‘
বিএনপি যদি নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায় কিংবা অভিশংসন হলে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ওগুলো কেন হতে দেব? আমি একজন সচেতন মানুষ। যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।‘
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে মূল্যায়ন জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার তো খুব অল্প সময় তাঁকে দেখা। টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি ওনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়। ওনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে, দেশের ভালো করবেন তিনি এই বিশ্বাস রাখি। তার বাবা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি না যে আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব।‘
এসএ