রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একটি মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও চুক্তির কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির অংশ হিসেবেই নিয়মিত আবর্তন প্রক্রিয়ায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প (Maitree Super Thermal Power Project)। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেড (এনটিপিসি লিমিটেড)-এর মধ্যে ৫০:৫০ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। যৌথ মালিকানার এ কোম্পানির নাম– বাংলাদেশ–ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।
যেহেতু এটি একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান, তাই এর শীর্ষ পদগুলো দুই অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের মনোনীত কর্মকর্তাদের মধ্যে আবর্তিত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রথম দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক—কাজী আবসার উদ্দিন ও সৈয়দ আকরামউল্লাহ—উভয়ই বাংলাদেশি ছিলেন। পরবর্তীতে তৃতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ভারতীয় নাগরিক সঙ্গীতা কৌশিক ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রামনাথ পূজারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি পূর্বনির্ধারিত চুক্তির অংশ হিসেবে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ আগের সময়গুলোতেও একই কাঠামো অনুসরণ করে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যৌথ উদ্যোগভিত্তিক প্রকল্পে এ ধরনের আবর্তন ব্যবস্থা অস্বাভাবিক নয়। ফলে রামপাল প্রকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ভারতীয় কর্মকর্তা নিয়োগ চুক্তির ধারাবাহিকতারই অংশ।