মধ্যপ্রাচ্যে ১২টিরও বেশি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
র্বঘোষণা ছাড়াই শনিবার ভোরে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার পর এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি কোনো নতুন বিষয় নয়। ইরাক যুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেনা সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময়েও তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথিদের ক্রমাগত হামলার পর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি জোরদার করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, এই অঞ্চলে কমপক্ষে ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিকে বহু আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞই স্থায়ী ঘাঁটি বলে মনে করেন। সেগুলো— সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সিরিয়ায় অবস্থিত।
কাতার—
কাতারের ‘আল উদেইদ‘ ঘাঁটিটি পুরো অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি। এখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং এর বিমান বাহিনী ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার রয়েছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইংও এই ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় এই ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, কাতারে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
বাহরাইন—
বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম বহরের সদর দপ্তর রয়েছে, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং কেনিয়ার দক্ষিণে পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে দায়িত্বে রয়েছে। এই স্থাপনা ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে পরিচিত।
এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদর দপ্তরও রয়েছে। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রে।
কুয়েত—
মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তার মধ্যে কুয়েত অন্যতম।
এর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্প আরিফজান, যেখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার রয়েছে। এটি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল এবং লজিস্টিকাল হাব হিসেবে কাজ করে। কুয়েতের ‘আলী আল–সালেম‘ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং রয়েছে। এছাড়া কুয়েতে এমকিউ–৯ রিপারসহ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ক্যাম্প আরিফজান ও আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি মিলিয়েই মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত—
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘আল ধাফরা‘ বিমানঘাঁটিতে একটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। এটি একটি কৌশলগত ঘাঁটি যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কম্ব্যাট এয়ার অপারেশন (যুদ্ধ বিমান অভিযানে) সাহায্য করে।
এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮০ তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং রয়েছে। এটি ১০টি বিমান স্কোয়াড্রন নিয়ে গঠিত এমন এক বাহিনী যেখানে এমকিউ –৯ রিপার্স–এর মতো ড্রোনও আছে।
ইরাক—
সাদ্দাম হোসেনের পতনের সময় ইরাকের ৫০০টিরও বেশি ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন ছিল।তবে বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ওয়াশিংটন তাদের ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করার জন্য বাগদাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।এখানে মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত কুর্দিস্তানের দুটি বিমান ঘাঁটি– আল আসাদ এবং ইরবিল থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই ঘাঁটিগুলো এবং ওই দেশের অন্যান্য ছোটোখাটো ঘাঁটিগুলোকে ইরানের–মিত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সিরিয়া—
সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আইএস–এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সিরিয়াজুড়ে বিভিন্ন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছে।
গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, ওই দেশে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা ৮ থেকে কমিয়ে ১টিতে নামিয়ে আনবে এবং সিরিয়ার বিষয়ে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনবে। কারণ এগুলোর কোনোটিই কাজ করেনি।
এসএ