শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীরসপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা করে সময় দিন দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে নেই বড় দুই তারকা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী মার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে হুতিরা: ট্রাম্প ৪৫তম বিসিএস৩২১ দিনেও গেজেট হয়নি, অনিশ্চয়তায় ১৮০৭ সুপারিশপ্রাপ্তরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দীপ্ত নিউজ
বাংলাদেশ

মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরনের জন্য প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় শুক্রবার (১৯ মে) মধ্যরাত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন নদী, সমুদ্র ও সাগরের মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।

এ উপলক্ষে ফেনীর সোনাগাজীতে মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে শুক্রবার উপজেলার চর খোন্দকার জেলেপাড়ায় জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন ফিশারিজ কর্মকর্তা খায়রুল বাসার, এসডিএফের ক্লাস্টার কর্মকর্তা সুলতানা আক্তারসহ জেলেরা।

সভায় জানানো হয়, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য মৎস্য বিভাগ মাছ ধরার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এসময়ে নদী ও সমুদ্রের মাছ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় করা যাবে না। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে কাজ করছেন। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ৬৫ দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা, মার্চ–এপ্রিলের দুই মাসের নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরায় অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে বছরে ১৪৭ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করতে হয় তাদের। এমনিতেই ঘূর্নিঝড়সহ নানা কারণে নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় জেলেদের রোজগার–ব্যবসায় টান পড়ায় তারা ঋণ আর ধার–দেনায় জর্জরিত। এরপর আবার সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কীভাবে পরিবার চলবে, এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছেন তারা। নিষেধাজ্ঞাকালে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল বলে দাবি করেন জেলেরা।

জেলেরা আরও জানায়, সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সদর ও আমিরাবাদ এ চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। সরকারী ভাবে মাত্র দুই হাজার জেলেকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেরাও সরকারী সহায়তা পেলেও অন্যরা পায় না। এজন্য তাদেরকে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয়। তাদের দাবি নিষিদ্ধ সময়ে যেন সব জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়।

চর খোন্দকার জেলে পাড়ার প্রিয় লাল জল দাস বলেন, নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে অনেক কষ্টে তাদের জীবিকা চলে। কেউ কেউ বিভিন্ন সড়কের পাশে জলাশয় ও পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের খাবার জোগাড়ের ব্যবস্থা করেন। অনেক জেলে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারায় ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারে না। এসময়ে ঋণের টাকা না নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনজিওগুলোকে বললে তারা উপকৃত হবেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে এসব জেলে পরিবারকে সরকারী ভাবে চাল দিয়ে সহায়তা করা হবে। তবে ৬৫দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদেরকে নদীতে না নামতে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে নামলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/আফ/দীপ্ত নিউজ