দীপ্ত নিউজ
খুলনা বিভাগ

মরা গরুর পচা গন্ধে লোকালয়ে সুন্দরবনের বাঘ, রাত জেগে পাহারা দিলো এলাকাবাসী

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
মরা গরুর পচা গন্ধে লোকালয়ে সুন্দরবনের বাঘ, রাত জেগে পাহারা দিলো এলাকাবাসী

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদীর চর ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয় জেলে সোহেল সরদার।

এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের সতর্ক করে বন বিভাগ। বন বিভাগের ধারনা ভোলা নদীর চরে আটকে থাকা একটি মরা গরুর পচা গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বাঘটি লোকালয়ে চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতে বাঘের সম্ভাব্য বিচরণ ঠেকাতে বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল শেখ বলেন, সুন্দরবনের ভোলা নদীর চরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথমে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয় জেলে সোহেল সরদার। পরে তিনি বিষয়টি ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যদের জানান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি বন বিভাগের পক্ষ থেকেও গ্রামে মাইকিং করা হয়।

সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা সরদার রোকনুজ্জামান বলেন, আমাদের গ্রামটি সুন্দরবনসংলগ্ন। সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হলেই সহজে গ্রামে প্রবেশ করা যায়। আগে নদীটি বেশ বড় ছিল, কিন্তু পলি জমে এখন অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। এ কারণে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ, সাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী সহজেই গ্রামে প্রবেশ করতে পারে। এর আগেও একাধিকবার গ্রামে বাঘ ঢুকেছে। বাঘের আক্রমণে জেলেরা আহত ও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের গৃহপালিত গরু-ছাগলও বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এবার মরা গরুর পচা গন্ধে আবারও বাঘ গ্রামে ঢুকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে আমরাও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি।

সুন্দরবনের ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) দলনেতা মো. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, নদীর চর ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের স্পষ্ট পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সতর্ক করার পাশাপাশি বনরক্ষীদের সঙ্গে ভিটিআরটি ও কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। একই সঙ্গে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। হ্যান্ডমাইকে প্রচার চালিয়ে সবাইকে সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সোনাতলা গ্রামটি সুন্দরবনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ভোলা নদী পার হয়েই সহজে গ্রামে প্রবেশ করা যায়। এ ছাড়া গ্রামটি সুন্দরী ও গোলপাতাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালায় ঘেরা। এ কারণে বন্য প্রাণীদের পক্ষে বন ও লোকালয়ের পার্থক্য বুঝে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ওই এলাকায় প্রায়ই বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, সাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর দেখা মেলে।

তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভোলা নদীর চরে আটকে থাকা একটি মরা গরুর পচা গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বাঘটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মরা গরুটিকে ভোলা নদীর চরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজির সদস্যদের আগামী চার থেকে পাঁচ দিন ওই এলাকায় পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএফও আরও বলেন, সুন্দরবনের বাঘসহ বন্য প্রাণী যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফেন্সি বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখনো প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী ও লোকালয়ের মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।

 

মামুন আহমেদ/এজে/দীপ্ত সংবাদ

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।