জাতীয় বেতন কমিশন প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন আড়াই গুণ বাড়ানোর সুপারিশ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উপদেষ্টা। এজন্য প্রতিবেদন আপাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে একজন উপদেষ্টা বলেছেন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিবেচনা করলে শুধু সরকারি চাকরিজীবীর বেতন অনেক বেশি বাড়ানো বৈষম্যমূলক হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের সীমাবদ্ধ আয়ের কথা উল্লেখ করে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।
এই প্রস্তাবে একমত পোষণ করেন আরও দুইজন উপদেষ্টা।
বৈঠকে একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করে, সে জন্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। বেতন কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত।
উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনার পর এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু উপদেষ্টাদের অসন্তুষ্টির কারণে, সেই কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে এই সরকারের আমলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা প্রায় অনিশ্চিত।
জানা যায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি দরকার পড়বে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র: সমকাল
এসএ