মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে এটি প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। টানা নবম দিনের মতো এ ধাতুর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও, যেখানে গত সপ্তাহেই সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ কমানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের ওপর নজর রাখা নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস’ সূত্রে জানা যায়, আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২৭৩ ডলার কমে ৪ হাজার ২১৮ ডলারে নেমেছে। এর ঠিক এক দিন আগেই এই দাম ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার।
হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সোনার দামে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গত ১৪ মার্চ প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ২০ ডলার। সেই হিসাবে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আউন্সপ্রতি সোনার দাম কমেছে ৮০২ ডলার।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক দিনেই দুই দফা সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। দুই দফায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়। এতে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় নেমে আসে।
দেশের বাজারে আজও নির্ধারিত ওই দাম অনুযায়ীই সোনা কেনাবেচা হচ্ছে। বাজুসের বর্তমান দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রুপার দামও কমানো হয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যসমন্বয়ের কারণে দামে ওঠানামা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সোনার বাজারে এই বড় দরপতন লক্ষ করা যাচ্ছে।
গোল্ডপ্রাইস–এর তথ্যমতে, এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।