সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি ২০০৮ সালে ৩০ আসনে নেমে এসেছিল। ২০২৬ সালে সরকার গঠনের পথে দলটি, এই যাত্রায় সময় লেগেছে ১৮ বছর। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার বিশ্বাস অর্জন করুন, হিসাব করার ক্ষমতা রাখুন এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত হোন।’
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমাদের আন্দোলন কখনো একটি নির্বাচন নিয়ে হয়নি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও জবাবদিহিতা রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। জামায়াত একটি নীতিবান, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখবে। নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটল।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলে অনেকেই হতাশ ও ব্যথিত হতে পারেন, তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। এবারের নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদে দলের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে জামায়াত। এটা কোনো ধাক্কা নয়। এটি একটি ভিত্তি।’
তিনি আরোও লিখেন, ‘গত কয়েক মাসে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেকেই সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন এবং কেউ কেউ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের এই সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।’
নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা শুধু নির্বাচনী প্রচারণায় নয় বরং জনগণের রায়কে কীভাবে গ্রহণ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।