সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬
সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১৫

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একাধিক এলাকা। ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংঘর্ষের পর থেকে অনেক এলাকায় পুরুষশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতসমর্থকদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াতসমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার জেরে সোমবার ভোররাতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।

সারিকা বেগম বলেন, আমার স্বামীসন্তান প্রবাসে থাকে। আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী চন্দ্রবান বেগম বলেন, আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। এ কারণে হঠাৎ করেই আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমার স্বামী ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। উল্টো তারাই পূর্বে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।

অন্যদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য শারমিন বেগম দাবি করেন, হাফিজ ভূইয়ার লোকজনই এলাকায় আগে থেকে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, নির্বাচনপরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সহিংসতার ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More