মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপালে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মোংলা–খুলনা মহাসড়কের গুনাইব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩ শিশু রয়েছে।
স্থানীয় ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মোংলা পোর্ট পৌরভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. রাজ্জাক তার ছোট ছেলে সাব্বিরকে বিয়ে দিয়ে কনে আনার জন্য বুধবার (১১ মার্চ) সকালে খুলনা কয়রায় অবস্থান করেন। নববধূকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলার দিকে যাচ্ছিলেন রাজ্জাকসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
এসময় মোংলা–খুলনা মহাসড়কের গুনাইব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে (কয়রা থেকে মোংলার দিকে) আসা ওই মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি মুহূর্তেই মাইক্রোবাসটি দুমড়ে–মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হয়।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের যাত্রীসহ মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের রং সাইডে ছিল বলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপুলিশ পরিদর্শক এসআই মো. হাসান জানান, নিহতদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল। মাইক্রোবাসে বর পরিবারের ১১, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৫ জন যাত্রী ছিল। আর মৃতদের মধ্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৩ জন নিহত হন।
তিনি আরও জানান, ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি ৪ জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহত আরও বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামপালে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই একই পরিবারের সদস্য এবং তারা সবাই মোংলা পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানায় নিহত রাজ্জাকের স্বজনরা।
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেওয়ায় নিহতের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ রিপোর্ট রেখা পর্যন্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শেষ করে বর্তমানে তদন্ত শুরু করেছে।