আগামী ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও দূষণের মতো পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালিত হয়।
জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নানা আলোচনা থাকলেও দেশে থামছে না পাহাড়ি পরিবেশ ধ্বংসের উৎসব। নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিত ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে তোলার কারণে প্রতি বর্ষাতেই পাহাড়ে নামছে মরণঘাতী ভূমিধস, যার ফলে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে প্রাণহানির তালিকা।
দেশের ৩ পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এবং মৌলভীবাজার অঞ্চলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবলীলায় চলছে পাহাড় কাটা। গাছপালা কেটে পাহাড় ন্যাড়া করে ফেলায় অতিবৃষ্টিতে সহজেই মাটি নরম হয়ে পাহাড় ধসে পড়ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৮ বছরে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ২৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরও থামছে না পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলার প্রবণতা।
কেবল কক্সবাজারের ৫১টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ বসতি, যেখানে অন্তত তিন লাখ মানুষ চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভয়াবহ ভূমিধসে ১৭ জন মারা যান এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
একইভাবে বান্দরবানের দুই পৌরসভা ও সাত উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষ পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের এক–তৃতীয়াংশই রয়েছেন অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বর্ষার রাতে বা ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ওপর থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছপালা ঘুমন্ত মানুষের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক প্রাণহানি।
পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সচেতন করতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই মাইকিং করা হলেও বসতি স্থাপনকারীরা ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে রাজি হন না।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সাময়িক মাইকিং বা সতর্কবার্তায় এই সংকটের সমাধান হবে না। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে বর্ষার এই প্রাণহানি ঠেকানো অসম্ভব।
মাসউদ/এসএ