শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬
শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

বউ বরণ নয়, লাশ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনরা

জুমার পর জানাজা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

হাতে মেহেদি, পরনে খয়েরি বেনারসি, কানের দুল হাতের চুরি সবই রয়েছেনেই মিতু নামের নতুন বউয়ের প্রাণস্পন্দন। বাগেরহাটের রামপালের বেলাই ব্রিজের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে নতুন বরকনে আবিদুর রহমান সাব্বিরসহ ১৪ প্রাণ। কে জানতো স্বামীর পাশে বসে থাকা মারজিয়া আক্তার মিতুর (২৪) নিথর দেহ উলটো পথে আবারও নিজ বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশায় ফিরে আসবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে পৌঁছায় মিতুর লাশ। সঙ্গে রয়েছে ছোট বোন লামিয়া (১২), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫), নানি আনোয়ারার (৭০) নিথর দেহ।

অন্যদিকে একই রাতে বাগেরহাটের মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় ফিরেছে আবিদুর রহমান সাব্বিরের (২৮) লাশ।

সঙ্গে রয়েছেন বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমানারা (৬০), বোন ঐশী (৩০), বোনজামাই সামিউল আলম (৪২), বড় ভাবি পুতুল (৩০), ভাগ্নে এবং ভাতিজা শিশু আলিফ, ইরাম ও আব্দুল্লাহ সানির (১২) নিথর দেহ। মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের (৩১) লাশও রামপাল উপজেলায় নিজ এলাকায় ফিরেছে গভীর রাতে।

পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে সাব্বিরের বড় ভাই আশরাফুল আলম জনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। বাবা আব্দুর রাজ্জাক মংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সামাজিক মানুষ হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে সেখানে জড়ো হচ্ছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার পর মংলা উপজেলা মাঠে নিহত সাব্বিরের পরিবারের সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নিহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে বেনারসি পরে বেলা ১১টায় খুলনার কয়রার উপজেলার নাকশা থেকে মাইক্রোতে চড়েছিল মিতু। নতুন শ্বশুরবাড়ি পৌঁছাতে সঙ্গে নিয়েছিল ছোট বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারাকে।

খুলনা থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী সাব্বির ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটে চলা মাইক্রোবাসটি পৌঁছে গিয়েছিল মংলার কাছেই। কিন্তু রামপাল এলাকার বেলাই ব্রিজের কাছে পৌঁছাতেই বৃষ্টির মধ্যে ঘটে বিপত্তি। মংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সব শেষ হয়ে যায়। দুমড়ে মুছড়ে যায় দুটি পরিবারের স্বপ্ন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ প্রদীপ নিভে যায় ১৪ জনের। বৃষ্টির মধ্যে মাইক্রোতে থাকা আহতদের বাঁচাতে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পথিমধ্যে ঝরে পড়ে একে একে সবাই। সূত্র: যুগান্তর।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More