ফেনীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়াড রাজাপুর ঘোনা এলাকায় এ বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক সূত্রে জানা যায়, জনৈক ব্যক্তি মুঠোফোনে ফেনী জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নেটওয়ার্কভূক্ত একটি সংগঠনের প্রতিনিধিকে একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন ছাত্রীর মতের বিরুদ্ধে তার অভিভাবক বিয়ে ঠিক করেছেন বলে তথ্য দেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনকে অবগত করা হয়।
রাজাপুরের ইউপি সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে জহিরুল ইসলামের (৩৪) সাথে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের দশম শ্রেণির ওই স্কুল ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করেছে উভয় পরিবার। বিষয়টি জেনে তিনিসহ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সুপারভাইজার নুরুল করিম ও অফিস সহকারী শহীদুল ইসলাম সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় কনের বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে নোটারী পাবলিকের একটি এফিডেভিট দেখায় কনের বাবা। কনের পরিবার দাবি করে মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে, এজন্য বিয়ে দিচ্ছে।
ইউপি সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও জানান, কনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ার কারণে তার বয়স প্রমানের দলিল সহজ হওয়ায় নোটারী পাবলিকের এভিডেভিট বাতিল করে দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন।
ফেনী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরেরর উপ–পরিচালক নাছরিন আক্তার জানান, ওই ছাত্রীর বাবা শরীয়ত উল্ল্যাহ বাল্যবিবাহ নিরোধ প্রতিনিধির কাছে তার মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ন না হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে অঙ্গিকার করেন।
বাল্যবিবাহ নিরোধ নিয়ে কাজ করা এনজিও ইপসার সহযোগিতায় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের কবল থেকে মুক্তি পেল দশম শ্রেণির ছাত্রী।
আফ/দীপ্ত সংবাদ